গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: কিছু কারখানায় সমস্যা রয়ে গেছে
পোশাক ও টেক্সটাইল খাতে অব্যাহত গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের পরিস্থিতির অনেকখানি উন্নতি হলেও এখনও কিছু কারখানায় সমস্যা রয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইলস মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) ভাইস প্রেসিডেন্ট শফিকুল ইসলাম সরকার। এসব সংকট দূর করতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সরকারি বাসভবনে বিটিএমএ নেতাদের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিটিএমএ ভাইস প্রেসিডেন্ট সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
শফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা তাদের অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং ব্যস্ত সময়ের মধ্যেও মনোযোগ ও ধৈর্য সহকারে বিটিএমএ প্রতিনিধি দলের বক্তব্য শুনেছেন।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে টেক্সটাইল খাতের গুরুত্ব অপরিসীম উল্লেখ করে তিনি জানান, এ খাতে বর্তমানে প্রায় ৩২ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বিনিয়োগ রয়েছে, যা তৈরি পোশাক শিল্পের প্রধান ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ হিসেবে কাঁচামাল সরবরাহ করে মূল চালিকাশক্তির ভূমিকা পালন করছে।
তিনি আরও বলেন, শিল্পখাতে বিদ্যমান নানা জটিলতা ও প্রতিবন্ধকতার কথা বিটিএমএ নিয়মিত গণমাধ্যম ও সরকারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে তুলে ধরে আসছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও বারবার আমাদের প্রতিনিধি দলকে সময় দিয়েছেন, ধৈর্য সহকারে সমস্যাগুলোর কথা শুনেছেন এবং ইতোমধ্যে বেশ কিছু সংকটের ইতিবাচক সমাধান করেছেন। কিছু কিছু সমস্যা নিয়ে আমরা এখনো কাজ করছি। সেগুলো নিয়েও আমরা আলোচনা করেছি। বিরোধীদলীয় নেতা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, এগুলো সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এবং সহযোগিতা করে যেন তাড়াতাড়ি সমাধান পাই, সে ব্যাপারে উনি আলোকপাত করবেন।
বিরোধী দলের কাছে প্রত্যাশার বিষয়ে জানতে চাইলে শফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা ছিল যে আমরা পরিচিত হবো। আমাদের যে কথাগুলো উনি সচরাচর গণমাধ্যমে শুনেন, সেগুলো সরাসরি তার কাছে পৌঁছে দেওয়া। উনার কিছু প্রশ্ন ছিল, আমরা চেষ্টা করেছি সেগুলোর উত্তর দেওয়ার। আমাদের সমস্যাগুলোর কথা উনি শুনতে চেয়েছেন, সেগুলো আমরা জানিয়েছি।’
পোশাক খাতের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনার বিষয়ে বিটিএমএ ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমাদের অনেকগুলোই তো সমস্যা আছে। সে সমস্যাগুলো আমরা সরকারের কাছে তুলে ধরেছি। আমাদের ইনসেন্টিভের সমস্যা, গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যা, এলডিসি গ্রাজুয়েশনে যে সমস্ত চ্যালেঞ্জ আসবে তা নিয়ে সরকারের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। সরকারের পক্ষ থেকেও এসব বিষয়ের অনেকগুলোই ইতোমধ্যে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাকিগুলো নিয়ে আমাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সেগুলো আমরা বিরোধী নেতাকেও অবহিত করেছি।’


