সৌরবিদ্যুতের যন্ত্রাংশ চুরি করলে ৩ বছরের জেল, ক্ষতি করলে ৫ বছর

সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে বিদ্যুৎ বা যন্ত্রাংশ চুরি করলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রেখে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে সরকার। এ ছাড়া সৌরবিদ্যুতের যন্ত্রাংশের ক্ষতিসাধন করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ থেকে সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে অধ্যাদেশটি জারি করা হয়। এর আগে রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে অধ্যাদেশের খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, চোরাই বলে জানা সত্ত্বেও সৌরবিদ্যুতের যন্ত্রাংশ কেনা, বিক্রি বা নিজের হেফাজতে রাখলেও সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

এ ছাড়া উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে অন্য কাউকে অবৈধ সংযোগ দিলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন, সংযোগ, পরিদর্শন বা রক্ষণাবেক্ষণের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা, কর্মচারী কিংবা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে বাধা দিলেও একই শাস্তি হতে পারে।

অধ্যাদেশে সৌরবিদ্যুতের বিস্তার ও এ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন বিধান রাখা হয়েছে। সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সরকারি কোম্পানি এবং বাসাবাড়ির ছাদ, আঙিনা, ভবনসংলগ্ন পতিত জমি ও জলাশয়ে সর্বোচ্চ পাঁচ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা যাবে। এর আওতায় থাকবে সৌরচালিত সেচপাম্প, কোল্ড স্টোরেজ, বৈদ্যুতিক যানবাহনের চার্জিং স্টেশন, চা বাগান, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ ও কৃষিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা। তবে বৃহৎ ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প এ অধ্যাদেশের আওতায় পড়বে না।

অধ্যাদেশে নেট-মিটারিংয়ের সুযোগও রাখা হয়েছে। এ ব্যবস্থায় গ্রাহক নিজের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারবেন। গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুতের পরিমাণ বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। এরপরও বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত থাকলে সরকার নির্ধারিত ট্যারিফ অনুযায়ী তার মূল্য পাওয়া যাবে। এ ছাড়া নেট-মিটারিংয়ে প্রণোদনা দিতে পারবে সরকার।

সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে অপারেশনাল এক্সপেন্ডিচার (ওপেক্স) ও ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচার (ক্যাপেক্স)-দুই ধরনের মডেল রাখা হয়েছে। ওপেক্স মডেলে বিনিয়োগকারী সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের ব্যয় বহন করবেন। অন্যদিকে ক্যাপেক্স মডেলে গ্রাহক প্রতিষ্ঠান নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প স্থাপন করে এর মালিকানা রাখতে পারবে।

ক্যাপেক্স মডেলে সীমিত দরপত্র পদ্ধতিতে পণ্য ও সংশ্লিষ্ট সেবা কেনার আর্থিক সীমা সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) ব্যবহার বাধ্যতামূলক হবে না। যোগ্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের জেলাভিত্তিক তালিকা তৈরি করা হবে এবং প্রতিযোগিতার মাধ্যমে গ্রাহক প্রতিষ্ঠান সেবাদানকারী নির্বাচন করবে। তবে গ্রাহক চাইলে ওপেন দরপত্রের মাধ্যমেও প্রতিষ্ঠান বেছে নিতে পারবেন।

সৌরবিদ্যুতের বিস্তার ও নীতিগত দিকনির্দেশনা দিতে জাতীয় পলিসি কাউন্সিল গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসককে সভাপতি এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি করে কারিগরি ও সমন্বয় কমিটি গঠন করা হবে। এসব কমিটি সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে সহায়তা, কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ, বিরোধ নিষ্পত্তি এবং বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন তৈরির দায়িত্ব পালন করবে। টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) তাদের ওয়েবসাইটে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার তথ্য সংরক্ষণ ও সচলতা পর্যবেক্ষণ করবে।

অধ্যাদেশের অধীন অপরাধের বিচার প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হবে। অপরাধগুলো মোবাইল কোর্ট আইনের তফসিলভুক্ত হলে মোবাইল কোর্টেও বিচার করা যাবে।

এআর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *